বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। মানবজীবনে সকাল এবং সন্ধ্যা—এই দুটি সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই সময়ে আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও জিকির করার প্রতি পবিত্র কুরআনে এবং হাদিস শরিফে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একজন মুমিনের সারাদিনের সফলতা, নিরাপত্তা এবং মানসিক প্রশান্তি নির্ভর করে সে তার সকাল ও সন্ধ্যার সময়গুলোকে কীভাবে অতিবাহিত করছে তার ওপর। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সকাল ও সন্ধ্যার জন্য এমন কিছু চমৎকার আমল, দোয়া ও জিকির শিখিয়েছেন, যা নিয়মিত আদায় করলে দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। এই আর্টিকেলে আমরা সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল এবং এর ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। সকাল সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির

সকাল-সন্ধ্যার আমলের গুরুত্ব ও কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনের বহু জায়গায় সকাল এবং সন্ধ্যায় তাঁর তাসবিহ ও জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা ত্বহা-র ১৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, “এবং তোমার রবের প্রশংসার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে।” এছাড়া সূরা আল-আহযাবের ৪১-৪২ নম্বর আয়াতে এরশাদ হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো।”
হাদিস শরিফেও সকাল-সন্ধ্যার জিকিরের ফজিলত বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট কিছু দোয়া ও জিকির পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে দুনিয়ার সমস্ত অনিষ্ট, জিন-শয়তানের অশুভ দৃষ্টি, আকস্মিক বিপদ-আপদ এবং পরকালের আজাব থেকে মুক্ত রাখবেন।” সকালের আমলের সময় হলো সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং সন্ধ্যার আমলের সময় হলো আসরের পর থেকে শুরু করে মাগরিব বা এশার পূর্ব পর্যন্ত। সকাল সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির
Table of Contents
১. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া)
সকাল-সন্ধ্যার আমলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করা। এটি হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া।
- আরবি উচ্চারণ: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَকَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
- বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানি, ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাত’তু, আউজু বিকা মিন শাররি মা সানা’তু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া ওয়া আবুউ লাকা বিজাম্বি, ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।
- বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের ওপর সাধ্যানুযায়ী অবিচল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমার ওপর আপনার যে নেয়ামত রয়েছে তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহও আমি স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। সকাল সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির
ফজিলত: বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুদৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনের বেলা (সকালে) এই ইস্তিগফার পড়বে এবং সন্ধ্যার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে। আর যে ব্যক্তি সুদৃঢ় বিশ্বাসের সাথে রাতের বেলা (সন্ধ্যায়) এই ইস্তিগফার পড়বে এবং সকাল হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে।”
২. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা
কুরআন মাজিদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত হলো সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত, যা ‘আয়াতুল কুরসি’ নামে পরিচিত। সকাল ও সন্ধ্যায় এটি পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
- আরবি উচ্চারণ: اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
- বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্ব। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ‘ইন্দাহু ইল্লা বিইজনিহ। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব, ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা, ওয়া হুওয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আজীম।
ফজিলত: হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে জিন ও শয়তানের সমস্ত উপদ্রব থেকে আল্লাহর হেফাজতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পাঠ করবে, সকাল হওয়া পর্যন্ত সে শয়তানের অনিষ্ট থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। সকাল সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির
৩. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস (৩ বার করে)
সকাল এবং সন্ধ্যায় এই তিনটি সূরা তিনবার করে পাঠ করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত। এই সূরা তিনটিকে একসাথে ‘মুআউবিজাতাইন’ বলা হয়।
ফজিলত: আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তুমি যদি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পাঠ করো, তবে এটি তোমার সমস্ত আপদ-বিপদ ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে।” (আবু দাউদ, তিরমিজি)। এই আমলটি মানুষকে হিংসুক, জাদুটোনা এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। সকাল সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির
৪. সব ধরনের ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার দোয়া (৩ বার)
সারাদিন ও রাতের যাবতীয় আকস্মিক বিপদ, দুর্ঘটনা এবং বিষাক্ত পোকামাকড় বা শত্রুর ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য এই দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার পড়তে হয়।
- আরবি উচ্চারণ: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
- বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামায়ি, ওয়া হুওয়াস সামিউল আলিম।
- বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
ফজিলত: তিরমিজি ও আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি সকালে ৩ বার এবং সন্ধ্যায় ৩ বার এই দোয়াটি পাঠ করবে, আসমান ও জমিনের কোনো সৃষ্টি বা কোনো প্রকার আকস্মিক বিপদ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সকাল সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির
৫. চারপাশের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া (৩ বার)
বিশেষ করে বিষাক্ত সাপ, বিচ্ছু, পোকা-মাকড় এবং দুষ্ট মানুষের ক্ষতি থেকে বাঁচতে এই দোয়াটি অত্যন্ত কার্যকরী।
- আরবি উচ্চারণ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
- বাংলা উচ্চারণ: আউজু বিকালি মাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।
- বাংলা অর্থ: আল্লাহর নিখুঁত কালামসমূহের উসিলায় আমি তাঁর আশ্রয় চাচ্ছি তাঁরই সৃষ্ট সমস্ত সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে।
ফজিলত: সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার এই দোয়াটি পড়বে, সেই দিন বা রাতে কোনো বিষাক্ত প্রাণী তাকে দংশন বা ক্ষতি করতে পারবে না। সকাল সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির
৬. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দোয়া (৩ বার)
কেয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ করার জন্য এই দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করা জরুরি।
- আরবি উচ্চারণ: رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا
- বাংলা উচ্চারণ: রাদীতু বিল্লাহি রব্বাও ওয়া বিল ইসলামী দ্বীনাও ওয়া বিমুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা নাবিয়্যা।
- বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি।
ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় ৩ বার এই দোয়াটি পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা নিজের দায়িত্বে তাকে সন্তুষ্ট করবেন।” (আবু দাউদ, তিরমিজি)।
৭. দুনিয়া ও আখিরাতের সব চিন্তামুক্তির দোয়া (৭ বার)
আমাদের জীবনের নানাবিধ মানসিক দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি দূর করার জন্য এই দোয়াটি অত্যন্ত কার্যকরী।
- আরবি উচ্চারণ: حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
- বাংলা উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুওয়া রব্বুল আরশিল আজিম।
- বাংলা অর্থ: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি। আর তিনি মহান আরশের অধিপতি।
ফজিলত: আবু দাউদ শরিফের হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় ৭ বার এই দোয়াটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত চিন্তাভাবনা ও পেরেশানি দূর করার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন।
৮. নবীজি (সা.) এর ওপর দরুদ পাঠ করা (১০ বার)
সকাল এবং সন্ধ্যায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ শরিফ পাঠ করা উম্মতের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। যেকোনো দরুদ পড়া যায়, তবে দরুদে ইব্রাহিম সবচেয়ে উত্তম। সংক্ষেপে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বা ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ’ পড়া যায়।
ফজিলত: তাবারানি শরিফের বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকালে ১০ বার এবং সন্ধ্যায় ১০ বার আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশ (শাফায়াত) লাভ করবে।”
৯. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠ করা (১০০ বার)
এই সংক্ষিপ্ত জিকিরটি পাঠ করতে খুব কম সময় লাগে, কিন্তু এর সওয়াবের পরিমাণ অপরিসীম।
- আরবি উচ্চারণ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
- বাংলা উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।
- বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
ফজিলত: সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার এই জিকিরটি পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে আর কেউ উপস্থিত হতে পারবে না; কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যে অনুরূপ আমল করেছে বা তার চেয়ে বেশি করেছে। এছাড়া অন্য হাদিসে এসেছে, এর মাধ্যমে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ হলেও তা ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
১০. ঈমানের ওপর অবিচল থাকার জিকির (১০০ বার)
- আরবি উচ্চারণ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
- বাংলা উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর।
- বাংলা অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
ফজিলত: যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় এটি ১০০ বার পড়বে, সে ১০টি গোলাম আজাদ করার সওয়াব পাবে, তার আমলনামায় ১০০টি নেকি লেখা হবে এবং ১০০টি গুনাহ মাফ করা হবে। এছাড়াও সেই দিন শয়তানের আক্রমণ থেকে সে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।
সকাল-সন্ধ্যার আমল নিয়মিত করার কিছু বাস্তব উপায়
ব্যস্ত জীবনে এই আমলগুলো নিয়মিত করার জন্য আমাদের কিছু কৌশল অবলম্বন করা উচিত: ১. নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি: ফজরের সালাতের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের সালাতের পর মাগরিব পর্যন্ত সময়টাকে জিকিরের জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়া। ২. মোবাইল অ্যাপ বা বইয়ের সাহায্য: শুরুতে দোয়াগুলো মুখস্থ না থাকলে নির্ভরযোগ্য কোনো দোয়ার বই বা মোবাইল অ্যাপ দেখে দেখে পড়ার অভ্যাস করা। ৩. একনিষ্ঠতা ও অর্থ বুঝে পড়া: দোয়াগুলো পড়ার সময় যদি তার অর্থ ও মর্ম মনে রাখা যায়, তবে অন্তরে আল্লাহর প্রতি মহব্বত ও ঈমানি শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সকাল সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির
উপসংহার
সকাল-সন্ধ্যার এই আমলগুলো কেবল কিছু শব্দের উচ্চারণ নয়, বরং এগুলো হলো আল্লাহর সাথে বান্দার গভীর সম্পর্ক তৈরির মাধ্যম। এই জিকিরগুলোর মাধ্যমে বান্দা প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় আল্লাহর দরবারে নিজের অক্ষমতা ও দাসত্ব স্বীকার করে এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতার কাছে আশ্রয় চায়। তাই আমাদের উচিত অলসতা পরিহার করে প্রতিদিন এই আমলগুলো করার মাধ্যমে আমাদের জীবনকে বরকতময় ও সুরক্ষিত রাখা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সকাল-সন্ধ্যার সুন্নাতসম্মত আমলগুলো নিয়মিত করার তৌফিক দান করুন। আমিন। সকাল সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির
